ফেসবুক ব্যবসায় অর্ডার আসার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, পার্সেলটা কার হাতে দেবেন? বাংলাদেশে অনলাইন বিক্রেতাদের কাছে দুটি নাম খুব বেশি শোনা যায়, Steadfast আর Pathao। দুটোই ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা দেয়, দুটোই সারা দেশে পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার দাবি করে, আর দুটোরই নিজস্ব মার্চেন্ট প্যানেল আছে। তাহলে আপনার ব্যবসার জন্য কোনটা ভালো? উত্তরটা এক লাইনে দেওয়া যায় না, কারণ সঠিক কুরিয়ার নির্ভর করে আপনার পণ্য, আপনার কাস্টমারের এলাকা আর আপনার প্রতিদিনের অর্ডারের সংখ্যার উপর। এই লেখায় দুটো কুরিয়ারের আসল তফাতগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া হলো, যাতে আপনি নিজের ব্যবসার হিসাব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
Steadfast Courier বাংলাদেশের অনলাইন বিক্রেতাদের মধ্যে পরিচিত একটি কুরিয়ার সার্ভিস। মার্চেন্ট প্যানেল থেকে পার্সেল বুক করা যায়, কাস্টমারের আগের ডেলিভারি ইতিহাস দেখে ফ্রড চেক করা যায়, আর ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা নির্দিষ্ট নিয়মে মার্চেন্টের অ্যাকাউন্টে আসে। ঢাকার ভেতরে ও বাইরে দুই জায়গাতেই এর ডেলিভারি নেটওয়ার্ক কাজ করে, আর ছোট থেকে বড়, অনেক ধরনের অনলাইন ব্যবসাই এটি ব্যবহার করে।
Pathao Courier প্রথমে রাইড শেয়ারিং দিয়ে পরিচিত হলেও এখন এর কুরিয়ার সার্ভিসও অনেক বিক্রেতা ব্যবহার করেন। ঢাকার ভেতরে দ্রুত ডেলিভারি আর অ্যাপভিত্তিক ট্র্যাকিং এর বড় সুবিধা হিসেবে ধরা হয়। মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে পার্সেল বুক করা, ট্র্যাক করা আর পেমেন্টের হিসাব দেখা যায়। যাদের অর্ডার বেশিরভাগ ঢাকার ভেতরে, তাদের কাছে Pathao একটি পরিচিত নাম।
কুরিয়ার বাছাইয়ের সময় শুধু নাম শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন না। নিচের ছয়টি বিষয় একে একে যাচাই করুন, তারপর বেছে নিন।
আপনার কাস্টমার কোথায় থাকেন, সেটাই প্রথম প্রশ্ন। ঢাকার ভেতরে হলে দুটো কুরিয়ারেই সাধারণত দ্রুত ডেলিভারি হয়। কিন্তু ঢাকার বাইরে জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে কোন কুরিয়ারের সার্ভিস আপনার এলাকায় ভালো, সেটা স্থানীয় বিক্রেতাদের কাছ থেকে জেনে নিন। যে এলাকায় আপনার অর্ডার বেশি, সেখানে যে কুরিয়ারের ডেলিভারি নিয়মিত ঠিকমতো হয়, সেটাই আপনার জন্য ভালো। কভারেজের তালিকা ওয়েবসাইটে দেখা গেলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা জানা বেশি কাজের।
প্রতি পার্সেলের চার্জ, ওজন অনুযায়ী বাড়তি চার্জ আর সিওডি চার্জ, এই তিনটি মিলিয়ে আসল খরচ বের করুন। শুধু ঢাকার ভেতরের চার্জ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না, ঢাকার বাইরের চার্জও দেখুন, কারণ সেখানকার অর্ডারেই অনেক সময় চার্জ বেশি পড়ে। চার্জের তালিকা সময়ে সময়ে বদলায়, তাই দুটো কুরিয়ারের বর্তমান চার্জ জেনে তারপর তুলনা করুন। পণ্যের দাম কম হলে প্রতি টাকার চার্জই লাভের হিসাবে বড় পার্থক্য তৈরি করে।
ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্যের টাকা প্রথমে কুরিয়ারের কাছে জমা হয়, তারপর সেটা আপনার অ্যাকাউন্টে আসে। এই সময়টা ব্যবসার নগদ প্রবাহের জন্য খুব জরুরি। পেমেন্ট কত দিনে আসে, সপ্তাহে কয়দিন সেটেলমেন্ট হয়, আর টাকা পেতে কোনো আলাদা শর্ত আছে কি না, আগেই জেনে নিন। টাকা দেরিতে এলে নতুন স্টক কেনা আটকে যায়, তাই এই বিষয়টা হালকাভাবে নেবেন না।
পার্সেল কোথায় আছে, ডেলিভারি হয়েছে কি না, কাস্টমার ফোন ধরেননি কি না, এসব তথ্য সঙ্গে সঙ্গে জানা গেলে আপনি কাস্টমারকে দ্রুত উত্তর দিতে পারেন। দুটো কুরিয়ারেরই ট্র্যাকিং সুবিধা আছে, তবে প্যানেল ব্যবহার করা কত সহজ, একসাথে অনেক পার্সেল বুক করা যায় কি না, আর সমস্যা হলে তথ্য কত দ্রুত আপডেট হয়, ব্যবহার করে দেখলে বোঝা যায়। প্রতিদিন অনেক অর্ডার থাকলে সহজ প্যানেল অনেক সময় বাঁচায়।
ফেক অর্ডার কমাতে কুরিয়ারের ফ্রড চেক খুব কাজে আসে। কাস্টমারের নম্বর দিয়ে আগের ডেলিভারি ইতিহাস দেখা গেলে সন্দেহজনক অর্ডার পাঠানোর আগেই ধরা যায়। রিটার্ন পার্সেল কত দিনে ফেরত আসে, আর রিটার্নের চার্জ কে দেয়, এই নিয়মও আগে থেকে জানা দরকার। রিটার্ন দেরিতে এলে পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই রিটার্নের ব্যবস্থাটাও তুলনার অংশ হওয়া উচিত।
পার্সেল আটকে গেলে বা হারিয়ে গেলে কত দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়, সেটাই আসল পরীক্ষা। সাপোর্টে ফোন, মেসেজ বা টিকিট, কোন মাধ্যমে যোগাযোগ করা যায়, আর সমস্যার সমাধান হতে কত সময় লাগে, অন্য বিক্রেতাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানার চেষ্টা করুন। ভালো সাপোর্ট থাকলে একটা সমস্যায় পুরো ব্যবসা থেমে যায় না।
| বিষয় | Steadfast | Pathao |
|---|---|---|
| মূল পরিচিতি | অনলাইন বিক্রেতাদের জন্য কুরিয়ার সার্ভিস | রাইড শেয়ারিং থেকে আসা কুরিয়ার সার্ভিস |
| ঢাকার ভেতরে ডেলিভারি | দ্রুত ডেলিভারি | দ্রুত ডেলিভারি, অ্যাপভিত্তিক ট্র্যাকিং |
| ঢাকার বাইরে কভারেজ | জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার্ভিস | জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার্ভিস |
| সিওডি সুবিধা | আছে, নির্দিষ্ট নিয়মে সেটেলমেন্ট | আছে, নির্দিষ্ট নিয়মে সেটেলমেন্ট |
| অর্ডার যাচাই | মার্চেন্ট প্যানেলে কাস্টমারের ডেলিভারি ইতিহাস দেখে ফ্রড চেকের সুবিধা | ট্র্যাকিং ও প্যানেলের মাধ্যমে অর্ডারের অবস্থা জানা যায় |
| মার্চেন্ট প্যানেল | ওয়েব প্যানেল থেকে বুকিং ও হিসাব | অ্যাপ ও প্যানেল থেকে বুকিং ও হিসাব |
ঢাকার ভেতরে অর্ডার বেশি হলে দুটো কুরিয়ারই চলে। অ্যাপ থেকে সবকিছু দেখতে পছন্দ করলে Pathao দিয়ে শুরু করতে পারেন, আর ওয়েব প্যানেল পছন্দ করলে Steadfast দেখতে পারেন।
ঢাকার বাইরে বেশি অর্ডার হলে আপনার এলাকায় কোন কুরিয়ারের ডেলিভারি নিয়মিত ভালো হয়, সেটা যাচাই করে নিন। এলাকাভেদে পার্থক্য থাকে, তাই অন্যের অভিজ্ঞতা শুনে নয়, নিজের এলাকার তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
ফেক অর্ডার বেশি হলে ফ্রড চেক সুবিধা যার ভালো, সেটাকে প্রাধান্য দিন। পার্সেল পাঠানোর আগে কাস্টমারের ইতিহাস দেখে নিলে রিটার্ন কমে, আর অর্ডার কনফার্ম করার পদ্ধতিও ঠিক করে নিন। ফেক অর্ডার কমানোর আরও উপায় জানতে আমাদের ফেক অর্ডার কমানোর গাইডটি পড়ুন।
অর্ডারের সংখ্যা কম হলে যেটার প্যানেল আপনার কাছে সহজ লাগে, সেটা দিয়ে শুরু করুন। পরে অর্ডার বাড়লে দ্বিতীয় কুরিয়ারও যোগ করতে পারেন। শুরুতেই জটিল সেটআপে যাওয়ার দরকার নেই।
একটার উপর পুরো ব্যবসা নির্ভর করলে সেই কুরিয়ারে সমস্যা হলে সব পার্সেল আটকে যায়। তাই অনেক বিক্রেতা ঢাকার ভেতরের পার্সেল একটাতে আর ঢাকার বাইরের পার্সেল আরেকটাতে দেন, অথবা একটা প্রধান আর একটা ব্যাকআপ হিসেবে রাখেন। দুটোতেই অ্যাকাউন্ট খুলে রাখলে প্রয়োজনে পার্সেল অন্যটাতে দেওয়া যায়। এতে খরচের তুলনা করাও সহজ হয়, কোন এলাকায় কোনটা ভালো করছে, সেটা নিজের তথ্য থেকেই বোঝা যায়। ছোট ব্যবসায় এটা বাড়তি ঝামেলা মনে হলেও অর্ডার বাড়লে এই ব্যবস্থাই ব্যবসাকে সচল রাখে।
কুরিয়ার বাছাইয়ে কোনো একটাই সঠিক উত্তর নেই। Steadfast আর Pathao, দুটোই বাংলাদেশের অনেক অনলাইন বিক্রেতার ব্যবসায় ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে সেরা সিদ্ধান্তটা আসে নিজের ব্যবসার হিসাব থেকে। আপনার কাস্টমারের এলাকা, অর্ডারের সংখ্যা আর নগদ প্রবাহের প্রয়োজন মিলিয়ে দেখুন, তারপর ছোট করে শুরু করুন। এক মাস ব্যবহার করে দেখলেই বুঝবেন কোনটা আপনার জন্য ভালো কাজ করছে। আর অর্ডার নেওয়ার দিকটা ঠিক রাখতে ভালো ল্যান্ডিং পেজ দরকার, যেখানে কাস্টমার সহজে অর্ডার করতে পারেন আর আপনি সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারেন। ZynSite এর ল্যান্ডিং পেজ মাত্র ৳৩,৯৯০ থেকে শুরু হয়, প্রথম বছরের ডোমেইন ও হোস্টিং ফ্রি থাকে, আর ৫০% অগ্রিমে কাজ শুরু হয়। সব প্যাকেজের দাম দেখতে পারেন আমাদের দামের পাতায়।
দুটোরই ভালো দিক আছে, তাই উত্তর নির্ভর করে আপনার ব্যবসার উপর। ঢাকার ভেতরে বেশি অর্ডার হলে দুটোই চলে, ঢাকার বাইরে বেশি হলে আপনার এলাকায় যেটার ডেলিভারি ভালো, সেটাই ভালো। চার্জ, সিওডি সেটেলমেন্ট আর ফ্রড চেক মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।
প্রতি পার্সেলের চার্জের সাথে ওজন অনুযায়ী বাড়তি চার্জ আর সিওডি চার্জ যোগ করুন। ঢাকার ভেতরে ও বাইরের চার্জ আলাদা হয়, তাই দুই এলাকার হিসাব আলাদা করে দেখুন। চার্জের তালিকা বদলাতে পারে, তাই পার্সেল দেওয়ার আগে বর্তমান চার্জ জেনে নিন।
এটা কুরিয়ারের সেটেলমেন্ট নিয়মের উপর নির্ভর করে। কত দিনে টাকা আসে আর সপ্তাহে কয়দিন সেটেলমেন্ট হয়, অ্যাকাউন্ট খোলার আগেই জেনে নিন। টাকা দেরিতে এলে নতুন স্টক কেনা আটকে যেতে পারে।
ফ্রড চেক সুবিধায় কাস্টমারের আগের ডেলিভারি ইতিহাস দেখা যায়, ফলে সন্দেহজনক অর্ডার পাঠানোর আগেই ধরা যায়। এর সাথে অর্ডারের পর কনফার্মেশন কল আর ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম নিলে ফেক অর্ডার আরও কমে।
WhatsApp এ মেসেজ করুন, আপনার ব্যবসা শুনে সঠিক প্যাকেজটি সাজেস্ট করব। ল্যান্ডিং পেজ মাত্র ৳৩,৯৯০ থেকে, ৫০% অগ্রিমে কাজ শুরু।
WhatsApp: +40 774 119 870